বিভেদের দেয়াল ভাঙার ডাক তারেক রহমানের

বুড়োশালিকেরঘাড়েরো February 18, 2026 Politics Dhaka
বিভেদের দেয়াল ভাঙার ডাক তারেক রহমানের

"ভোট কার বাক্সে পড়ল, দেখার সময় নেই—আমি ১৮ কোটি মানুষেরই প্রধানমন্ত্রী!" জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিভেদের দেয়াল ভাঙার ডাক তারেক রহমানের

লিড নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, বাংলাদেশ

ড়ির কাঁটা তখন রাতের নিস্তব্ধতা জানান দিচ্ছে। পুরো জাতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে টেলিভিশনের পর্দায়। দীর্ঘ দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এলেন তিনি। কিন্তু এ কোন তারেক রহমান? চিরাচরিত দলীয় নেতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন এক রাষ্ট্রনায়ক। বুধবার রাতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বজ্রকণ্ঠ যখন ইথারে ভেসে এল, তখন তিনি আর শুধুই বিএনপির কান্ডারি নন—তিনি ঘোষণা করলেন এক নতুন বাংলাদেশের, যেখানে 'আমরা' আর 'ওরা'র কোনো ভেদ নেই। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এই সরকার কোনো দলের নয়, এই সরকার ১৮ কোটি মানুষের।

🔥 আগুনের পরশমণি (ভাষণের চুম্বক অংশ):

  • নাগরিকের অধিকার: "আপনি আমাকে ভোট দিয়েছেন কি দেননি—তা বিবেচ্য নয়। এই রাষ্ট্র আপনার, এই সরকার আপনার। আপনার অধিকার রক্ষায় আমি অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকব।"
  • ধর্মীয় সম্প্রীতি: "পাহাড় থেকে সমতল, মসজিদ থেকে মন্দির—কোথাও কেউ নিজেকে যেন অনিরাপদ না ভাবেন। সংখ্যাগুরু বা লঘু বলে কোনো শব্দ আমার অভিধানে নেই।"
  • আইনের শাসন: "দলীয় পরিচয় অপরাধীর ঢাল হতে পারবে না। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার রক্ষা নেই।"

দীর্ঘদিন ধরে চলা 'ফ্যাসিবাদী' শাসনের অবসান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের যাত্রার পর, তারেক রহমানের এই ভাষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে দেখছেন। তিনি কেবল বিজয়ের উল্লাস করেননি, বরং কাঁধে তুলে নিয়েছেন এক ভঙ্গুর অর্থনীতি আর ক্ষতবিক্ষত সমাজকে জোড়া লাগানোর গুরুদায়িত্ব। বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সিন্ডিকেট, দুর্নীতি আর লুটপাটের জঞ্জাল পরিষ্কার করার চ্যালেঞ্জ যে সহজ নয়, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট ছিল।

রমজান ও সিন্ডিকেট: এক কঠিন হুঁশিয়ারি

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। আর ঠিক তার আগের রাতেই মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, রমজান মাস সংযমের, পকেট কাটার উৎসব নয়। "মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি আর প্রয়োজনকে জিম্মি করে যারা অতি মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন, তারা সাবধান হোন!"—তাঁর এই উক্তি বুঝিয়ে দেয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর হবে প্রশাসন।

বঙ্গদর্শনের চোখে ভবিষ্যৎ:

ভাষণটি আবেগের, কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। দলীয় নেতাকর্মীদের সামলানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধী মতের আস্থা অর্জন—এই তিন ফ্রন্টে লড়াই করাই হবে নতুন সরকারের আসল পরীক্ষা। তারেক রহমান কি পারবেন কথার ফুলঝুরিকে বাস্তবতায় রূপ দিতে? নাকি এটিও হবে ইতিহাসের আরেকটি সাধারণ রাজনৈতিক বক্তৃতা?

জনতার আদালতে প্রশ্ন:

"প্রধানমন্ত্রীর এই 'সবার সরকার' হওয়ার প্রতিশ্রুতি কি বাংলাদেশের রাজনীতির হিংসাত্মক সংস্কৃতি বদলে দিতে পারবে? আপনার মতামত কী?"

বঙ্গদর্শন ডেস্ক

সত্য যেখানে সাহসের সাথে বলা হয়

আমরা খবর পড়িনা, শুনিনা, আমরা খবর বানাই।

ভিজিট করুন: bongodarshan.com

Comments

Leave a Comment
Comments will be displayed after moderation.

No comments yet. Be the first to comment!